রান ঢাকার শাঁখারি বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে চাকরি করতেন। পাশাপাশি চোরাই স্বর্ণ কিনতেন, সেসব স্বর্ণ আবারও বিভিন্ন পার্টির কাজে কমদামে বিক্রি করতেন। এভাবেই একসময় চোরাই স্বর্ণের বাজারে নির্ভরযোগ্য ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেন।
গল্পটি কোনো রূপকথা কিংবা সিনেমার নয়, বাস্তবের। গল্পটি দেশের অন্যতম স্বর্ণ ব্যবসায়ী আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের। চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচা করতে করতে একসময় স্বর্ণ চোরাচালানের ’মাফিয়া ডন’ হিসেবে আবির্ভূত হন সেলিম। কয়েক দশক ধরেই দেশের শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত তিনি।গত ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেলে সেলিমের ছেলে সাফাত ও তার বন্ধুরা মিলে দুজন তরুণীকে রাতভর ধর্ষণ করে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে হুমকি-ধমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ধর্ষণের মামলা হয়। গ্রেপ্তার হয় সাফাত ও তার এক বন্ধু।
মামলার ঘটনা জানাজানি হলে আত্মগোপনে চলে যায় সাফাত ও তার বন্ধুরা। এ অবস্থায় গণমাধ্যমে ছেলের পক্ষে সাফাই গেয়ে আলোচনায় চলে আসেন দিলদার আহমেদ সেলিম। গণমাধ্যমে সেলিম মন্তব্য করেন, ’আমার পোলা আকাম (ধর্ষণ) করছে, তো কি হইছে? জোয়ান পোলা একটু-আধটু তো এসব করবই। আমিও তো করি। আমার যৌবন কি শেষ হয়ে গেছে? আমি এখনও বুড়া হইনি।’ গণমাধ্যমে দিলদার আহমেদ সেলিমের এমন বেফাঁস মন্তব্যে তোলপাড় চলছে।
এদিকে ব্যবসায়ী সেলিমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। প্রাথমিকভাবে আপন জুয়েলার্সের বিআইএন তল্লাশি করে ডায়মন্ড আমদানির কোনো তথ্য পায়নি সিআইআইডি।
সংস্থাটি বলছে, এক ক্যারেট (দশমিক ২ গ্রাম) ডায়মন্ডও বৈধভাবে আমদানি করেনি আপন জুয়েলার্স। অথচ গুলশান, বায়তুল মোকাররম ও উত্তরার আপন জুয়েলার্সের শোরুমে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে ডায়মন্ডের অলঙ্কার। মূলত কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে এসব ডায়মন্ড শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা হয়েছে। সিআইআইডির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।